২৪৭. রাষ্ট্র সমীপে
রাষ্ট্র সমীপে
__নজরুল বিন রশিদ
হে রাষ্ট্র,
শোনবে কি আমার কথা,
তবে শোনো বলি,
ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে, যে দেশকে হায়েনাদের হাত থেকে রক্ষা করেছো তুমি,
সে লাল সবুজের বুকেই এখন শকুনের দল।
হে রাষ্ট্র,
সভ্যতার আলয়ে তুমি অসভ্যদের জন্ম দিচ্ছো,
তোমার বুক চিরে দলে দলে বের হচ্ছে হায়েনার দল,
চার পা নয়, দু'পায়া জন্তু।
একটি, দু'টি নয়, হাজারে হাজার।
তোমার নাভিমূলে আস্তানা গড়েছে বিষাক্ত উঁকুন।
প্রতি ক্ষণে ক্ষণে রক্ত চুষে খাচ্ছে নরপিশাচরা।
লুটে নিচ্ছে তোমার তিল তিল করে গড়া সম্পদ।
উপর তলা থেকে নিচ তলা পর্যন্ত তাদের পদচারণ,
যেখানে যা পাচ্ছে, নিমেষেই গলাঃধরণ করছে।
ব্রিজের রট, ইট, বালু, সিমেন্ট।
খেটে খাওয়া মানুষের বরাদ্দকৃত চাল, ডাল, তেল।
এতিমের টাকা, বস্তির ভিখারীর ভিক্ষার টাকা,
গদগদ করে গিলে খাচ্ছে, ডাস্টবিনের ময়লা, নর্দমার পানি।
হে রাষ্ট্র,
তোমার স্বাধীনতায় আজ পচন ধরেছে,
পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্ধী সব,
তোমার পুরো মস্তিষ্ক জুড়েই কিলবিল করছে বিষাক্ত পোকা,
প্রতিটি মানুষ পদে পদে খাচ্ছে ধোকা।
তোমার বুক চিরে যে নরপশুর, হায়েনার দল ভুমিষ্ট হয়েছে,
তারে তুমি বলি দাও।
বলি দাও তারে,
দাও বলি।
তার রক্তে গোসল করে পুত পবিত্র হও।
না হয়, শুনে রেখো,
আমরা পায়ে দলবো তাদের।
পিষে মারব।
পিষে মারবো তাদের।
শান্তি দাও মোদের।
কালা ভাইয়ের সাত বছরের ফুটফুটের মেয়েটাকে,
সেদিন, সেদিন শিয়াল শকুনগুলো ছিড়ে ছিড়ে খাইছে
মাইডার বাপটা হাউ মাউ কইরা কান্না করলো।
এলাকার কিছু মানুষ গিয়া রাস্তায় মানব বন্ধন করলো।
পুলিশ আইসা তাদেরকে পিটাইয়া রাস্তা ছাড়া করলো।
মন্ত্রী আইসা কইলো বিচার কইরা দিবো।
মন্ত্রী পুলিশ দিয়া ঐ নরপিশাচগুলারে ধরলো।
আমি বুকে চাপা কান্না নিয়া, মুখে হাসি ফুটাইলাম।
কিছুদিন পর দেখলাম, সেই শুয়ারের বাচ্ছারা রাস্তায় আরেকটা মেয়ের নষ্টামীর ফাদ পেতেছে।
আমি বুইজা গেছি,
আমি বুইজা গেছি,
আমার মাইয়ার বিচার অইব না।
হে রাষ্ট্র, আমরা পিষে মারবো তোমার কুলাঙ্গারদের।
না হয় তুমি, তাদের মাটি চাপা দাও৷
গন্ধও যেন না পাই।
আর চাই না কান্না,
আর নয় নষ্টের দখলে।
আর নয়।
এবার শান্তি চাই,
শান্তি।

Comments
Post a Comment