২৩৭. চেতনায় বিদ্রোহী
চেতনায় বিদ্রোহী
___সূর্য নজরুল
চেতনায় কি ফিরিবে আবার বিদ্রোহী কবি নজরুল
ফণীর ঝড়ে নিভিয়াছে, ঝড়িয়াছে নাকি শত বকুল।
ঝ্বঞ্জাতে ঐ তীক্ষ্ণ খুর ধার, পাঞ্জায় নেহি বাহুবল,
ওরে চক্ষু খুলিয়া দ্যাখ,
হৃদ জোশ কিবা বাহু জোর সে'তো অশান্তি অগ্নির রেখ।
মানিক আমি পেয়েছি যে শত বুকের মানিকে হারায়,
হারানো সে সুর দূরে বহুদূর লংকাফোড়ন চিতায়।
নিশীত রাতে জল আঁখিপাতে ভিজিল কপোল সীতায়।
যুগে যুগে আমি পাইয়াছি কত ঋষী মূনী দরবেশ,
তাহাদের ভীড়ে পাইনি' কো জাত, দর্শিয়েছি ফাও বেশ।
মানব জাতির এক খানাকে, করলো যারা এক'শো খান,
জাতের নামেই বজ্জাতি সব, রক্ত চুষিয়া কাড়িলো প্রাণ।
নেশার জগতে বেসাতি আমারে কে দিয়াছে আজ ওরে,
আমি উল্কাপিন্ডের বজ্রপাতে কাপাই ধরা থর থরে।
কে বলে আজ আমি স্বাধীন!
আমি তাহারে দলিয়া, কান মলিয়া, দেখাইয়াছি পরাধীন।
সয্যা সঙ্গী ছলচাতুরী মোরে, বিধিয়াছে বিষের বাণ,
মৌ- লোভী আজি মৌলভী সাজিয়া, বক্ষ নাহি পরিত্রান।
কামারে পিটিয়া লোহা শাবলে ধারিল অস্র গন্ডদেশ,
তূর্যনিনাদ তীর্য তীরে বাজিছে ধ্রিম ধ্রিম, রক্ত রেশ।
দেশ জাতি আজি ধর্ম ধরিছে কর্ম কি তাহারে খুজে,
কর্ম যে তা'র ধর্ম ব্যবসা বিনা পুজিতে দেবী পুজে।
আমি রণতরী, ডিজিটাল ক্লক সময়ের চাক্ষুস স্বাক্ষী,
কালের গোধূলির আলোমাখা প্রেমের অষ্ট প্রহর কষ্ট রক্ষী।
রক্ষীরাও ফাঁসিকাঠ ঘিরে মরণের ক্রিয়া বিষ ক্রিয়া ভাজে,
মাটির দেখে পরাণ আমার ফুপিয়ে ফুপিয়ে আত্না নাচে।
আমার বিজয় ক্লান্তি আনে শ্রান্তিহীন এক মুন্ডুসার,
লুটায় চরণ রক্ত রথে, জয় শুনেছি ভয়ের পাড়।
আজি বিদ্রোহিরে ডাকিতেছি, ও ভাই,
মরণ নেশায় টান দে আজ,
বজ্র হেনে শিলা চাপায় ব্যাঘ্র হও রে বন্য সাজ।
বাজা তোর আজ মরণ কাপা, ক্ষেপা 'হো রে মরন ক্ষেপা,
মার'রে চাপা, হিংস্র থাবা, কাড়'রে জান আজ,
ওরে ও তরুনের বীর, দাড়া আজ উঁচিয়ে শীর,
হুংকারে তুই জাগারে সব।
কালের এই নিমেষ কালো, জ্বালো রে আগুন জ্বালো,
বিদ্রোহীর এই চেতন বানী, এক ঝাকারে অক্ষি মেলো।
যে যুগে হয় নি কবি, সে যুগে অর্ক-রবি উঠছে সে রোজ,
নিশির ঐ আধার ঘিরে মরু-ধু বালু চিরে ব্যাথিল সুচ।
আমি চেতনায় বিদ্রোহী, কালের কালোরে খামচে ধরি,
পিশাচের বক্ষ চিরি, চিতার আগুনে জ্যান্ত পুড়ি,
আমি যে লক্ষ প্রাণের দক্ষ দেহের সাগর মুক্তা নুড়ি।
খেয়ালীর বেখেয়ালী, রাধা প্রেম যম দুয়ারী, কৃষ্ণ, কানন বালা,
আমি যে আদম-হাওয়ার মিলন প্রেমের পৃথ্বী সুধায় মৌ,
পুষ্প কানন প্রিয়ার কেশে সপ্ত সাজে লজ্বা রাঙা বউ।
রাখালের বাশির সুর, মধ্য দুপুর, ক্লান্ত পথিক, শ্রান্ত মন,
আমি যে মেঘ বালিকার খোলা চুলে রেশমী চুড়ি দূরের বন।
শান্তি বিরাজ যেথায় আছে রোজ ছুটি ভাই সেথায়,
পায়ের কোমল মাটির স্পর্শ ধুলায় ভরি মাথায়।
আমি এন্টার্টিকার ঠান্ডা বরফ, সেলসিয়াসের জিরো,
আমি অন্যায়ের এক অগ্নি রাহু কামার লোহার হিরু
যত পাপ আছে এ ধরায় আজ হিসেব নিবে প্রভু,
আমি তাহারেই খুজি, তাহারেই পুজি, হাল ছাড়ি না কভু।
আমি শক্তের ভক্ত নরমের যম, উল্টোতে রেখা মোর,
আমি ধুলায় উড়াই অত্যাচারী যত, উদিত নতুন ভোর।
Comments
Post a Comment