ক্রোমোজোম দায়ী
ক্রোমোজোম দায়ী
___নজরুল বিন রশিদ
পুত্রসন্তান না হওয়ায় নাকি মনোকষ্টে ভুগছিলেন নাগশ্রী। আর তাই তো তিন নাবালক মেয়েকে নিয়ে কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন। বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় একশো কিঃমি দূরে চিক্কাবাল্লাপুরা জেলার হনুমন্তাপুরা গ্রামে একদিন সকাল বেলায় তিন মেয়ে পাচ বছরের নব্যশ্রী, তিন বছরের দিব্যশ্রী ও মাত্র দু মাসের ছোট মেয়েকে নিয়ে কুয়োয় ঝাঁপ দেন নাগশ্রী। বাড়ির কাছেই চাষের জমি। তিনটি বাচ্চাকে নিয়ে সেখানে গিয়েই জীবনের শেষ পরিকল্পনা করেন নাগশ্রী। তৃতীয় সন্তানটি মেয়ে হওয়ার পর, পেশায় দিনমজুর স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির দিনে দিন অনাদর অবহেলা আর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে, মৃত্যু নামক গরল পিয়ালা পান করেন নাবশ্রী।
পুরুষতান্ত্রিক নারী বিরোধী সমাজে সর্বদা নারীদের দোষ গুলোই বড়ো করে দেখানো হয়। তাই অনেকে হয় তো বলবেন এমন ভালো মেয়ে গল্পে পাওয়া যায়, বাস্তবে নয়। কিন্তু একবারও কি তাঁরা ভেবে দেখেছেন পুরুষ নিজেই নিজেদের বিলগ্রেডস এর ব্যাটা প্রমাণ করার জন্য কিংবা নিজেদের সাধু করে রাখার জন্য এমন অত্যাচার করতে পারে নিজের সহধর্মীনির উপর।
পরের মেয়ে দেরি করে বাড়ি ফিরলে আমরা বলি, আহ, মেয়েটি দিন দিন গোল্লায় যাচ্ছে। আর নিজের মেয়ে দেরি করলে বলি, মেয়েটা তো অনেক দূরে গেছে, হয়তো গাড়ি পায় নাই। এর এজন্যই দেরি হচ্ছে। নিজের দোষ ঢাকার স্বভাবটা আমাদের রয়েই গেল। প্রকৃতপক্ষে এইটা আমাদের দোষ না। দোষ আমাদের সমাজের।
আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এতটাই ঘুনে ধরা আর কুসংস্কার জনিত রোগে আক্রান্ত যে, আমরা চোখ খুললেই অন্তরে বিশ্বাস করি কিন্তু বাস্তবে তা দেখাতে চাই না।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী বিদ্বেষী কিছু কাপুরুষের দল, সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করেছে। যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই কাজের কর্মফলের জন্য নারীকেই দায়ী করা হয়। অবশ্যই মন্দ কাজের ফল। ভাল কিছু হইলে, তাহা কেবল পুরুষের দখলেই সুনাম ফুটে।
Comments
Post a Comment