ছেলেবেলা
ছেলেবেলা
___নজরুল বিন রশিদ
স্কুল জীবনে সকলেই আমাকে ভাল বলেই জানতো। এর পেছনে একটি কারনও আছে বটে। সেই কারনটি হল, আমি কারো সাথে দুষ্টামী করতাম না। দুষ্টামী করতাম না সেটা কিন্তু নয়। সকলের অগোচরে নিজেকে খুশির জোয়ারে তুলে ধরতে কখনো কুন্ঠাবোধ করতাম না। সময় পেলেই উড়াউড়ি আর ঘুড়াঘুড়ির তো শেষ ছিল না। ছেলের বেলার স্বাধীনতা মুক্ত পাখির স্বাধীনতা। সেই কথা কি আর কাউকে বুঝিয়ে বলতে হয়। কারণ সেই দিনগুলো সকলেই পেছনে ফেলে এসেছে।
সময়টা ছিল ১৯৯৫। তখন আমি ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ি। প্রাইমারী টপকিয়ে হাই স্কুলে উঠেছি। খুশির জোয়ার মনের চারি দেয়াল উতাল পাতাল নদীর মত ঢেউ খেলছে। শুধু যে ঢেউ খেলছে কেবল তাই নয়, ভয় ভয় ও লাগছে। বাড়ির পাশেই স্কুল। স্কুলের পেছনে একটা চিকন বাকা রাস্তা চলে গেছে আমাদের গ্রামের ভেতর। কেউ পড়া না পারার জন্য বেত খেলে স্বচক্ষেই মাঝে মাঝে ভাঙ্গা বেড়ার ফাক দিয়ে দেখা যেত। মা একদিন সেই রাস্তা দিয়ে যেতে দেখতে পেল, একটা ছেলেকে হাই বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে অনেকক্ষন রেখে তারপর কয়েক ঘা বসিয়ে দিয়ে ছেড়ে দিল। সেদিন প্রথমেই মা দেখেছিল হাই স্কুল এর মাষ্টার মশাইদের শাস্তি। ওরে বাবা! ছেলেটি কাদতে কাঁদতে অস্থির। ভয়ে ভয়ে অর্ধেক কান্না বাহিরে আর অর্ধেক কান্না ভেতরে। পরে জানতে পারলাম। সে গুরুজনের কথা শুনে নাই।
যাক, আমরা বেশ কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রাইমারী শেষ করে হাই স্কুলের গন্ডিতে আসলাম। সেই কি আনন্দ তা আর বলে বুঝানো যাবে না।
Comments
Post a Comment