২০৩. মধ্যবিত্তের জীবন

মধ্যবিত্তের জীবন
___নজরুল বিন রশিদ

দিন যাপিত কষ্ট ক্লেদে হচ্ছে ভারী ঋণ বোঝা,
দুঃখীর ঘরে পান্তা ভাতে কুরমা পোলাও নয় সোজা
বাবা যখন রিক্সা ভ্যানে কিংবা কুলি দিন মজুর,
দুঃখিনী মা কাজ করে যায় পরের বাড়ি ভর দুপুর।
অভাব থাকে ছায়ার মত পিছু পিছু রোজ ছুটে,
মধ্যবিত্ত জীবন যাপন কোমল পায়ে সুই ফুটে।
বিষকাটালি ভেষজগুণে লাভ কি তাতে পর লাভে,
নিজে যদি পায় না আহার কর্ম ধুয়ে সব যাবে।
সকাল বেলা নাস্তা থাকে মুড়ি, পানি, চিড়ে-গুড়,
সারা বেলা ঠেলা ঠেলে কর্মে আনে আপন সুর।
বৃদ্ধ বাবা মায়ের কাটে কাথা গায়ে শীতের রাত,
তোষক কিংবা লেপ কম্বল পায় না কভু মিষ্টি স্বাদ।
রুই, বোয়াল, শিং , মাগুর গোশত তাদের স্বপ্ন রোজ,
ভাল খাবার আকাশ ছোয়া স্বপ্নে সারা বছর ভোজ।
লেখাপড়া ভেরি হার্ডে টাকা পয়সা ভীষণ চাপ,
মেট্রিক পাসে পিএইডি হয় পা বাড়াতেই অগ্নি তাপ।
লুঙ্গী যদি পড়তে শিখে দিন মজুরের সহজ কাজ,
প্যান্টে শার্টে খুব ঝামেলা মাঠে যেতে ভীষণ লাজ।
চায় না কভু চাচীর ঘরে ভাল খাবার তরকারী,
কষ্টে কাটে বোবা মুখে খুবই  জানা দরকারী।
হাত পাতে না কারো কাছে যায় না কভু ফুটপাতে,
অভিনয়ের চিলতে হাসি মায়ের সামনে রোজ রাতে।
সরকারী নয় বেকারী নয় চাকরীটা নেই এই দেশে,
আগে-পিছে ভাবতে গিয়ে কপাল কাটে সব শেষে।
মধ্যবিত্তের জীবন যাপন কষ্ট অতি মাকাল ফল,
সারা জীবন কাটে তাহার বছর বছর চোখের জল।

Comments

Popular posts from this blog

প্রার্থনা

ইচ্ছে মনির ইচ্ছে ঘুড়ি(শিশুতোষ কাব্য গ্রন্থ)