১৯৯. লাল সবুজের কাব্য
বাড়ির পাশে ক্ষেতের আইলে
সকাল বেলায় দেখি,
শিশির গুলো মুক্তা জ্বলে
করছে ঝিকিমিকি।
পা দু'খানা আলতো ছোয়ায়
ভরিয়ে দিছে প্রাণ,
হরিৎ হরিৎ সবুজ বুকে
পুষ্ট সকল ধান।
কৃষক মজুর হাসিতে মুখ
চাঁদের আলোয় ভরায়,
কৃষাণী তার অধর চুমী
বাহুডোরে জড়ায়।
ঘাস ফড়িং আর ফড়িং পাখি
মুক্ত মনে উড়ে,
দোয়েল, শ্যামা, ঘুঘু, টিয়া
হাসে হৃদয় ভরে।
সানকীতে ভাত, লংকা মরিচ
টেংরা, পুটির ঝুল,
বারো মাসি ছিল ফসল
মনে ছিল দুল।
পাতায় পাতায়, লতায় লতায়
জড়ানো সব সুখ,
স্বাধীনতার জন্য হঠাৎ
ভিড়ল কালো দুখ।
শ্রমের ঘাড়ে পড়ল চাবুক,
অধিকারে বাধা,
পাকিস্তানি শাসন শোষণ
মারল মোদের সদা।
রাজনীতি আর শিক্ষাক্ষেত্রে
সকল অবিচার,
মানবে কেন? বাঙ্গালী তা
ফিরাবে অধিকার।
এক ডাকে সব জ্বাললো আলো
দূর করিতে আঁধার,
কৃষক মজুর যুদ্ধে গেল
বাচার মত বাচার।
স্টেনগানে সব ছাই করিল,
পূড়িয়ে দিল ভিটা,
হালের বলদ, হাড় গোনা যায়
পুষ্ট ধানে চিটা।
আমার মায়ের নাকের নোলক
হারিয়ে রক্ত জলে,
ছেলের শোকে পাগল, 'মা' তার
'খোকা 'খোকা' বলে।
নয় মাসের এক রক্ত যুদ্ধে
ফিরল স্বাধীনতা,
সবুজ বুকে লালের চিহ্ন
স্বাধীন কাব্যকথা।
Comments
Post a Comment