১৮৪. স্বাধীনতা তুমি কার?
স্বাধীনতা, তুমি কার
___নজরুল বিন রশিদ
রক্তের লেলিহান খেলায়, পদ্মা, মেঘনা,যমুনার বুক চিরে প্রবাহিত লাল টুকটুকে তাজা রক্তের গন্ধে, যে স্বাধীনতা এলো!
সেই স্বাধীনতা কার বলো?
মুক্তিবাহিনীর উল্লাসে, চিৎকারে, উন্মাদে,
স্লোগানে স্লোগানে সোচ্চারে মুখরিত হয়ে,
যে স্বাধীনতা এলো,
সে স্বাধীনতা কার বলো?
ত্রিশ লক্ষ শহিদের, লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে, যে স্বাধীনতা এলো,
সে স্বাধীনতা কার বলো?
আজও আমি ফোনের ঐ প্রান্তে নিরপরাধ বাবার বুকে বুলেটের শব্দ শুনতে পাই, শুনতে পাই মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে শেষ নিঃশ্বাস।
শুনতে পাই,রাজাকারের তান্ডব চালানোর মত কিছু পায়ের শব্দ।
এই কি সেই স্বাধীনতা!
আজও আমি দেখতে পাই অধিকার আদায়ে রাজপথে মানববন্ধন,
আজও আমি দেখতে পাই মিলিটারীর মত মিছিলে গুলি।
আজও আছে রাজপথে রক্তের দাগ।
আজও আমি শুনতে পাই ধর্ষিতা বোনের কাতর চিৎকার।
স্বাধীনতা!
তবে তুমি কার?
ডাস্টবিনের পাশে বসে থাকা ভিখারীর আর্তনাদ কি কেউ শুনতে পাও?
কুকুরের মুখ থেকে খাবার ছিনিয়ে নিয়ে খাওয়ার দৃশ্য কি দেখতে পাও?
স্বাধীনতা, তুমি কার?
এই দেশ তো সেই দেশ।
যে দেশে ছিল না কোন কথা বলার অধিকার,
ছিল না কোন অধিকারের অধিকার।
ছিল কিছু হায়েনার তান্ডব লিলা, ধর্ষণ, খুন, হাহাকার, অত্যাচার, নির্যাতন, মহামারী, হাহাহানী,
আমার বাংলা বুকে ধ্বংসের রাস উৎসব।
এই দেশ কি ফিরে পেতে চায়, সেই দুঃস্বপ্নের কালো রাত।
স্বাধীনতা, তবে তুমি কার?
আমার মায়ের আচলে আজও খোকার রক্তের দাগ।
ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলে আজও বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে।
আজও শেয়াল শুকুনিদের তান্ডব লিলা দেখি।
মায়ের চোখের জলে আর তাজা রক্তে, যে স্বাধীনতা এলো,
সে স্বাধীনতা কার বলো?
Comments
Post a Comment