১৭০. পল্লীগ্রাম

পল্লীগ্রাম
___ নজরুল বিন রশিদ

পল্লী ঘেরা মেঠো পথের গায়ের পথটি ছাড়ি,
দক্ষিনেতে গায়ের হাট রাস্তার পাশেই বাড়ি।
বিশাল বড় রাজার দিঘি পানিতে থৈ থৈ,
পিচঢালা এই রাজপথেতে ফুটছে ধানের খৈ।
আমার বাড়ি সবুজ বনে  অবুঝ আমার মন,
লতা পাতায় থাকি আমি এটাই আসল ধন।
কাঠের সাথে টিনের ছানি রৌদ্র হাসে ফিক,
ছেলে মেয়ের লেখা পড়া সব কিছুতেই ঠিক।
পাড়ায় যখন আম কাঠালে থাকে গাছে ভরা,
পূবাল হাওয়ায় মনটি নাচে নাচে ঝর্না ধারা।
পুব আকাশে সুর্য হাসে মিষ্টি পাখির গানে,
হলদে ক্ষেতের পাকা ধানে মনটা ভীষণ টানে।
শীতের দিনে মেরা পিঠার আহা কি যে ঘ্রাণ,
আজও মনে পড়ে সেদিন কাদে মন প্রান।
মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ে টিনের ফুটো দিয়ে,
হাড়ি পাতিল সারি সারি রাখি সাজিয়ে।
পল্লী মায়ের আচল পাতা  সবুজ বনের বাঁকে,
রাখালিয়া পাখির সুরে ডাকে গাছের শাখে।
মাথার উপর আকাশ যেন মুতির ঘরের ছাদ,
ভালবেসে হেসে হেসে কাটায় সারা রাত।
গ্রীষ্মনিবাস উদাস করা দখিন পবন পাণে,
হাজার বছর পরেও যেন হাজার হৃদয় টানে।
নতুন ধানের আগমনে পিঠাপুলির ধুম,
স্বাদ জেগেছে মনে মনে দু'চোখে নেই ঘুম।
ছেলে মেয়ের ডাংগুলি আর কানামাছি খেলা,
হাতিমারা  সাগর ডেপায় কাটে সারাবেলা।
গ্রাম যে আমার মায়ের মত আদর সোহাগ করে,
বুকের মাঝে  যতন করে রাখে আগলে ধরে।
সহজ সরল মানুষগুলোয় দেখায় উদারতা
নিত্য দিনের ভালবাসায় শিখায় মানবতা।

২৪/০৬/২০১৮

Comments

Popular posts from this blog

প্রার্থনা

ইচ্ছে মনির ইচ্ছে ঘুড়ি(শিশুতোষ কাব্য গ্রন্থ)