গুরুশিষ্য(প্রবন্ধ)
গুরুশিষ্য
___ নজরুল আজম
দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে, আমাদের চারিপাশের মানুষগুলোর রুপ ও রঙ পাল্টাচ্ছে। সময়ের স্রোত আর নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। এই কথাটা সম্পর্কে আমরা কম বেশি সবাই অবগত। আমার মতে নদীর স্রোত ঋতুভেদে আবার ফিরে আসলেও সময়ের স্রোত ক্ষীন। সময়ের মানুষ যখন পালটায় তার আর পরিবর্তন আসে না। আসলেও মন্দ।
বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষগুলোর মুখের পানের ফিনকি দিয়ে বের হওয়া কথার যুক্তিতে যথেষ্ট রস আছে। যেমন তার লাল আভা, তেমনি তার রস গন্ধ।
অযথা যুক্তি তর্ক করার অভ্যেস আমার নেই। কালগুলোই আজ কোলকে খেয়েছে। কোলের কদর আর আদর এখন আর নেই।
কদর আর আদর এর কথা মনে পড়তেই, মনে পড়ল ছোট বেলার বিদ্যাপীঠ রর কথা। কতই না মধুর ছিল সেই দিনগুলি। ঘুরাঘুরি, দৌড়া দৌড়ি। এই কাজ গুলো আজও আছে বটে। তবে কিছুটা ক্ষয়ে গেছে। যেমন করে ক্ষয়ে যায় সোনা। স্বর্নকারের দোকানে নিলেই কমে।
স্বর্নের মতই কমে গেছে আমাদের কদর। বড়দের সন্মান আর ছোটদের স্নেহ। এর জন্য কি যুগ, সভ্যতা নাকি সংস্কৃতি দায়ী? প্রশ্নটা জটিল হলেও নীতি কথায় অটুট থাকাটাই বাঞ্চনীয়। কেননা সত্য চির উন্নত আর মিথ্যা কালের কোলে ধ্বংস।
সত্যের নায় ডুবে না। মিথ্যার আশায় ভাসে না।
সত্য, সুন্দর, শ্রদ্ধ্যা ভক্তি, স্নেহ ভালবাসা আজ বিলুপ্ত। কথাটা সরাসরি বলেছি। হয়তো কারো কারো মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়তে পারে। আজকাল দেখা যায় নো সিনিয়র জুনিয়র! কথাটা শুনে আশ্চর্য হবার মতই। কেউ কাউকে তোয়াক্কা করে না। এমন কিছুর জন্য কি আমাদের সংস্কৃতি দায়ী নাকি পারিবারিক শিক্ষা? আমার মনে হয় প্রাতিষ্টানিক শিক্ষার আগে আমাদের পারিবারিক শিক্ষা অতীব জরুরী। কেননা শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। তারা যা শেখে, দেখে দেখে শেখে। তাই তার শিক্ষার পেছনে মা বাবা বা তার পরিবেশ প্রধান ভাবে ভুমিকা পালন করে। স্বকীয়তার গুন বলে একটা কথা আছে। যারা ব্যবহারে ভাল তারা নিজ থেকেই পারিবারিক শিক্ষার মাধ্যমে ভাল হয়। ব্যবহার বা আচার আচরন শেখার জন্য আলাদা কোন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের প্রয়োজন আছে কি?
আপনি লক্ষ করবেন, কিছু মানুষ তার স্বভাব পরিবর্তনে কার্পন্য করে। তারা মনে করে এটা তাদের ঐতিহ্য বা বংশগুন। মাঝে মাঝে দুই এক বাক্য ইংরেজি বলতে পারলেই আর বাংলা ভাষার সাথে কিছু বেংরাজি শব্দ মিলাতে পারলেই উচ্চ শ্রেনীর বংশ মর্যাদাবান হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এটা নিতান্তই তাদের বোকামী ছাড়া আর কিছুই না।
বয়সের বেরিতে রেখে কাউকে মাপা যায় না ঠিক কিন্তু আচরনের মাধ্যমে সহজেই ধলা, কালা চেনা যায়। যার অন্তরে বিষ, সে তো আর মধু বাক্য বলতে পারে না। পারমানবিক বোমার মাধ্যমেও একটি প্রানময় বাক্য বের করা যাবে না।
অনেকেই বয়োজ্যেষ্ঠদের সন্মান করতে জানে না। ছোটদের ভালবাসতে শেখে নি। সময়ের সাথে সাথে তারা হয়ে উঠে মানবতা বিরোধী। তাদের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, চারপায়ী জন্তুর বৈশিষ্টের সাথে অনেকটা মিল আছে।
আর তাই তো সমাজে এখন মা বাবা, শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের সাথে আধুনিক কিছু সন্তানদের কটুবাক্য নিয়মিত আসে। শিক্ষকদের সাথে আদব কায়দার বিন্দুও খুজে পাওয়া যায় না। বড় হলে অনেক শিষ্য, গুরুদের চেনে না। বরং কাধে ভর করে কার্য উদ্ধারের চেষ্টা করে। আমি সবার কথা বলছি না। কিছু লোক আছে এমনিই হয়। এক ড্রাম দুধের মধ্যে যেমন এক ফোটা বিষই যথেষ্ট, ঠিক তেমনি ভাল মানুষের ভীড়ে একটা কয়েকজন আদব কায়দাহীন মানুষই যথেষ্ট। ধীরে ধীরে তারাই পরিবেশকে নোংরা করে তুলে।
অনেক সন্তান বড় হওয়ার পর মা বাবাকে ভরণ পোষণ দেয় না। দু'বেলা দু'মুটো ভাত দিতেও তারা দ্বিধাবোধ করে। যে সকল মানুষ পিতা মাতা, শিক্ষাগুরু এবং বড়দেরকে কষ্ট দিবে, তাদের ইহকাল এবং পরকাল, দুই কালই বৃথা যাবে। তাই সকলের প্রতি শ্রদ্ধ্যার সাথে আহবান থাকবে, কেউ তাদেরকে কষ্ট দিবেন না।
Comments
Post a Comment