১২৫. ফিরে এসো তুমি
ফিরে এসো তুমি
___ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
প্রচন্ড খরা।
চৈত্রের দুপুরে, গ্রীষ্মের দাবদাহ মাঠে,
আমার বুক চিরে বের হয় বিষাক্ত লাঙলের ফলা।
হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ এখন।
খাঁ খাঁ মরুভুমির বুক চিরে ফাটল ধরেছে,
উত্তপ্ত বালুকনা,
পুড়ে ছাড়খার করে ফেলেছে আমার ভিতর, বাহির।
তুমি এসো ফিরে,
এসো এক পশলা বৃষ্টি হয়ে।
হৃদয়টাকে ভিজিয়ে নেব,
আবার প্রান ফিরে পাবে আমাদের ভালবাসা।
যৌবনের উন্মাদনা নিয়ে, হাসতে হাসতে ঘুরে বেড়াব,
নদী, সাগর,মহাসাগর, দেশ থেকে দেশান্তরে,
যুগ থেকে যুগান্তরে।
গভীর সমুদ্রে গিয়ে মেঘ হব।
ফিরে এসো তুমি, এসো।
তোমায় নিয়ে ভাসব আমি মেঘের ভেলায়
খেলব খেলা তারার সাথে বেলা অবেলায়।
এসো তুমি,
ভাসতে ভাসতে চলে যাব, দূর বহুদুর।
ঐ পাহাড়ের শেষ সীমানায়,
আলতো স্পর্শে বৃষ্টি হয়ে ঝড়বে তুমি,
ভিজিয়ে দিবে আমার খাঁ খাঁ মরুভুমি।
সতেজ হয়ে উঠবে আমাদের নিষ্পাপ ভালবাসা,
পাখির গানে, নদীর কলতানে, প্রজাপতির রঙ্গিন ডানায়, ঘাসফুল হয়ে,
আর সবুজের সমারোহে,
আমিও ঘুড়ি হব তোমার ইচ্ছের মনের জানালায়।
সকালে মিষ্টি রোদ দেখব, তোমায় নিয়ে ঘুড়ে বেড়াব ঐ সবুজ প্রান্তরে।
হারিয়ে যাব দূর অজানায়।
এসো। ফিরে এসো তুমি।
দেখে নিও, আর অভিমান করো না।
হৃদয়ের ক্ষত গুলো শুকাতে দিয়েছি ভালবাসার কাছে।
তুমি আসলেই সজিব হয়ে উঠবে হৃদয়ের প্রতিটা শিরা উপশিরা।
ক্রোধেরা পাড়ি জমাবে দূর অজানায়।
এসো তুমি। ফিরে এসো।
আঁকাবাঁকা মেঠো পথ দিয়ে হেটে, নদীর ঐ পাড়ে ছোট্ট একটা নীড় সাজাব তোমায় নিয়ে।
কাশ ফুল দিয়ে বানিয়ে দেব মুক্তার মালা।
কানে দেবে লতানো ফুল,
লাল ফুলটা দিয়ে দুই হাতে পিষে, রাঙাবে মেহেদী হাত।
নদীর মাঝ থেকে হাপিয়ে হাপিয়ে এনে শাপলা ফুল, তুমি খোপায় গুছবে আর হাসবে।
অট্ট হাসিতে বনো হাসেরা, পাখিরা ভীড় জমাবে।
বরণ করবে তুমি মেহেদী হাত দিয়ে।
আর আমি তোমার বাহুডোরে আবদ্ধ হয়ে,
সুখের ছোয়ায় উড়ে যাব দু'জনে ঐ দূর অজানায়।
আসবে? এসো তুমি। ফিরে এসো।
সব অভিমান ভুলে যাব কথা দিলাম।
এসো। ফিরে এসো তুমি।
তুমি আসবে বলে কবিতারা সেজে আছে বইয়ের ভাজে ভাজে।
ফিরে এসো তুমি।
ফিরে এসো।
রচনাকালঃ২৪/০৩/২০১৮
Comments
Post a Comment