পতেঙ্গার পথে। পর্ব :০৪
পতেঙ্গার পথে
নজরুল ইসলাম
পর্ব:০৪
এমন সময় হঠাৎ কানে বাজল ভিতরে ঢুকতে দশ টাকা করে টিকেট লাগবে। তাই নিয়ম মেনে তাই করলাম। সবাই এক সাথে সামনের দিকে হাটছি। খুব ভাল লাগছে। কিছুটা উচু রাস্তা। পাহাড়ের গা ঘেষে এমন রাস্তা শুধু সেখানেই দেখা যায়। যারা ভ্রমন ভালবাসেন তাদের জন্য একটি চমৎকার স্থান। উপভোগ করার মত।
সীতাকুণ্ড পাহাড় হিমালয় হতে বিচ্ছিন্ন হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলীয় অংশ। এই পাহাড়টি হিমালয়ের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক ঘুরে ভারতের আসাম এবং ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্য দিয়ে ফেনী নদী পার হয়ে চট্টগ্রামের সঙ্গে মিশেছে। চট্টগ্রাম অংশে ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম শহর পর্য্যন্ত এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ কিলোমিটার। এই পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত হয়েছে সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক।সীতাকুণ্ড শহরের পূর্বে অবস্থিত চন্দ্রনাথ শৃঙ্গ১১৫২ ফুট উঁচু এবং চট্টগ্রাম জেলার সর্বোচ্চ স্থান। রাজবাড়ি টিলার উচ্চতা ৮৮৯ ফুট এবং সাজিঢালার উচ্চতা ৮০১ ফুট। চট্টগ্রাম শহরের কাছাকাছি এসে এই পাহাড়ের উচ্চতা অনেক কমে এসেছে। চট্টগ্রাম শহরের উপকন্ঠে বাটালি হিলের উচ্চতা ২৮০ ফুট এবং শহর থেকে সামান্য উত্তরে নঙ্গরখানা ২৯৮ ফুট উঁচু। এখানে রয়েছে সহস্রধারা আর সুপ্ত ধারা নামের দুটি জলপ্রপাত। মীরসরাই অংশে রয়েছে খৈয়াছড়া, হরিণমারা, হাটুভাঙ্গা, নাপিত্তাছড়া, বাঘবিয়ানী, বোয়ালিয়া, অমর মানিক্যসহ আরো অনেক অনেক ঝর্ণা ও জলপ্রপাত। পূর্বদিকে এই পাহাড় থেকে উৎসারিত হয়ে কয়েকটি ঝর্ণা তথা খালহালদা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এর মাঝে গজারিয়া, বারমাসিয়া,ফটিকছড়ি, হারুয়ালছড়ি এবং বোয়ালিয়া অন্যতম। পশ্চিম দিকে #মহামায়া, মিঠাছড়াসহ আরো কয়েকটি ছড়া ও ঝর্ণাবঙ্গোপসাগরেপতিত হয়েছে। বর্তমানে মহামায়া ছড়ার উপর একটি রাবার ড্যাম নির্মিত হয়েছে। এই লেক দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক, তাছাড়া নীলাম্বর হ্রদ নামে একটি মনোরম লেক এই পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
আমাদের অবস্থান তখন মহামায়া লেকের কাছাকাছি । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় এই লেকটি মনের খোরাক যোগাতে কিছুতেই কার্পন্য করল না। সবাইকে এক সাথে নিয়ে অনেকগুলু স্মৃতি ক্যামেরা বন্ধী করলাম। পাকা রাস্তা বেয়ে পাহাড়ের উপড় উঠা , এ যেন সেনাবাহিনীর কোন ট্রেনিং এ অংশ নেয়া। সেখান থেকে নেমেই চিক চিক করা স্বচ্ছ পানিতে নিজের হাত স্পর্শ করা মাত্রই নিজের হাত শিউরে উঠল। অনেকটা ঠান্ডা, তবে সহনীয়।
Comments
Post a Comment