পতেঙ্গার পথে- পর্ব:০৩

পতেঙ্গার পথে
     নজরুল ইসলাম
        পর্ব:০৩
গাড়িটা তখন ছুটছে প্রচন্ড গতিতে সীতাকুন্ডের দিকে........................
আমি আর আমার পাশে বয়োজ্যেষ্ঠ সেই ব্যাক্তিটি  মনে করিয়ে দিল আমাকে গ্রান্ড টাংগ রোডের কথা। তিনি আমাকে বললেন এটাই সেই গ্রান্ড ট্রাংক রোড। আগের মত নেই, অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। মেইন রোডে অনেকটা জ্যাম থাকায় চালক তার রাস্তা পরিবর্তন করেছে কিছুক্ষনের জন্য। শুনতে ইচ্ছে হল গ্রান্ড ট্রাংক রোডের ইতিহাস। এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও দীর্ঘতম সড়ক পথ এটি। এই দৈর্ঘ ২৫০০ কি:মি বা ১৬০০ মাইল।

গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের বিস্তৃত মৌর্য সাম্রাজ্যের সময় থেকে ছিল। এটি গঙ্গার মুখ থেকে সাম্রাজ্যের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আধুনিক সড়কের পূর্ববর্তী সংস্করণটি সম্রাট শের শাহ শুরি নির্মাণ করেন। তিনি ঘোড়ার ডাকের প্রচলন ও করেন। এতে প্রাচীন মৌর্য সড়কের সংস্কার ও বর্ধিত করা হয়। ১৮৩৩ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্য ব্রিটিশরা এর আরো সংস্কারসাধন করে। আগেকার দিনে তথ্য আদান প্রদানের জন্য ঘোড়ার ডাকের প্রচলন ছিল । এই রোড নির্মান করার পর ডাক আদান প্রদানের বব্যস্থা আরো সহজ হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সুবিধার জন্য নাকি প্রায় দুই ক্রোশ পর পর বিশ্রামাগার এবং সরাই খানার ব্যবস্থা ছিল। রাস্তার দুই পাশে বৃক্ষ রোপন ছিল  । যাতে করে ক্লান্ত অবস্থায় গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারে। গল্প শুনতে শুনতে হঠাৎ করেই কানে বাজল ছেলে মেয়েদের চিৎকার, হৈ হুল্লোর। বাহিরে তাকিয়ে দেখি আমরা এসে পৌছে গেছে আমাদের সেই সীতাকুন্ডে ।
বাস থেকে মাটিতে পা ফেললাম। মনে হল একটা বুক ভরা দীর্ঘ নি:শ্বাস ফেলতে পারলাম। সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালাম। এমন সময় ............

Comments

Popular posts from this blog

প্রার্থনা

ইচ্ছে মনির ইচ্ছে ঘুড়ি(শিশুতোষ কাব্য গ্রন্থ)