৬৪.চান্দের আলোয় মন ভরাই
চান্দের আলোয় মন ভরাই
নজরুল বিন রশিদ
মায় কইছিল,
বা,জান এই রহম দস্যি মাইয়ার পেছনে আর ঘুড়িছ নাত।
তোর চোকের পানি আমার আর সয় না।
মা' রে তোরে কেমনে বুঝাই?
আমি তো ঘুড়তে চাইনারে মা,
আমার মনের ভিতর খালি থাইকা থাইকা ঐ পাখিডারে মনে পড়ে।
বুকের ভিতরডা শুধুই খালি খালি লাগে, মাইধ্যে মাইধ্যে আতকে উডে।
হ, বুঝচ্চি বুঝচ্চি ঐ মাইয়াডায় তরে তাবিজ করছে,
আমার সরল পোলাডার মাথা খাইল।
মা, রে এমন কইরা কইচ না মা।
আমি যে পাখি রে বড়ই ভালবাসি।
পাখি কইছিল যেই খানেই থাক, আমার কাছে উইড়া চইলা আইব।
কইছিল, আমি যহন থাকমু না,
তহন ঐ দূর আকাশের পুর্নিমার চান'ডারে দেখতে।
কি ঝকঝকা রুপালী চানরে মা দ্যাখ!
জানস মা? আমার পাখিও অহন চানডারে দেকতাছে।
আমার পাখি তো চান্দের মতন সুন্দর।
গত শীতে পাখি আমারে কইছিল,
আইচ্ছা, তুমি ঠান্ডার সময় গরম কাপড় গায় দেও না কিরে?
আমার জমানো টাকা দিয়া পাখিরে একটা গরম কাপড় কিন্না দিছিলাম,
এই জন্যই তো আমি কিন্নতে পারি নাই,
এইডা তো পাখি জানত না।
বন থেইক্কা বেত্তুন,
কনকনে শীতে বুক হমান পানি ভাইংগা পদ্দের ট্যাক,
আর কত বায়না যে পুরন করলাম!
এত আদর কইরা এই বুকের মধ্যে জায়গা দিলাম, আর সে উড়াল দিয়া বুকটা ভাইংগা চইলা গেল!
আমারে নিয়া সকাল বেলা সবুজ ঘাসের উপড় আটত।
আর কইত, তোমারে লইয়া জলাডার মাইধ্যে দিয়া ক্ষেতের আইল ধইরা, ঐ যে দেহা যায় হইলদা হওড়া ক্ষেত, এইডার পাশ দিয়া রেল লাইনের উইটা সোজা চইলা যায়াম,
আর আইতাম না বাইত।
আমি তহন হাসতাম আর কইতাম,
হুম, আইয়ু, অহনি চইলা যাই?
পাখি তহন খিল খিল কইরা হাসত।
তার সেই হাসিডা অহনো কানে বাজে।
বা'জান আর কত বাইরে থাকবি?
অহন ঘরে আয় তো,
বহুত রাইত অইছে, ঘুমাইতে অইব।
আরেকটু চানডারে দ্যাইখা নেইরে মা।
আজও পুর্নিমার চান উঠলে রাতভর উডানে দাড়াইয়া থাহি।
সকাল বেলা সবুজ ঘাসের উপড় শিশিরে পা ভিজাই।
ক্ষেতেই আইল দেখলে কুডে কুডে আডি।
হওড়া ক্ষেত দেখলে তার লগেই বইসা পড়ি, শুধু চাইয়া থাহি।
রেললাইনের উপড়ে গেলে
খুব ডাহর কইরা দূরে চাইয়া চাইয়া দেহি,
পাখিডারে যদি পাই।
এমনেই দিন কাডাই,
পাখিডারে খুজি, শুধুই খুজি,
নাহ, খুজে পাই না।
চান্দের আলোয় মন ভরাই।
Comments
Post a Comment