১০৬. গফুর দাদা

গফুর দাদা
  নজরুল বিন রশিদ
শত বছর পার হল আজ গফুর দাদার জীবনে,
যতই কাটিয়াছে জীবন তাহার সুখ ছিল না মনে।
অল্প বয়সে করল বিয়ে পরীর মতন মুখ,
চান্দের আলো চেরাগ হয়ে গুছিয়ে দেব দুঃখ।
হেসে খেলেই রঙ্গ তামাশায় কাটিয়েছে কিছু দিন,
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সংসারে লেগেছে ঋন।
বছর পার হতেই দাদা দেখিল একখান সোনা চান মুখ,
বিধাতা বুঝি দাদার পানে ফিরিয়ে দিয়েছেন সুখ।
এক এক করে সংসারেতে আসিল নতুন অতীথি,
দাদার মনে আগুন মাখা ভালবাসা প্রেম প্রীতি।
চার কন্যার জন্ম দিয়েই ছেলের আশায় বুক বাধে,
সপ্ন যে তার পুরন হল কয়েক বছর পার হতে।
সম্পদ যে তার প্রচুর ছিল বসত ভীটে আর জমি,
পুকুর ভরা মাছ ছিল গোলা ভরা ধানি।
রাজার মতই রাজ্য ছিল বন্ধুসুলভ প্রজা,
সরল মানুষের ভাত নাই তাই তো পড়িল সাজা।
আকাশে বাতাসে দুঃখের ধ্বনি বেজে উঠে ক্ষনে ক্ষনে,
অন্ধকারে চারপাশ ঘেরিল হুতুম ডাকিল বনে।
চার সন্তানের বিয়ে দিয়ে দিল খান বাহাদুর বাড়ি,
বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পড়িত সুপারী গাছ সারি সারি
দাদা একজন সোনা মানিক ছিল নাম তাহার হারুন,
রেলওয়েতে সরকারী চাকরী মাইনে পেত দারুন।
দাদার এখন বয়স ভারী ভাবছেন বসে বসে,
মা যদি একটা আনতে পারত সংসারে লক্ষী যে।
যেমন কথা তেমন কাজ লক্ষী আসিল ঘরে,
হারুন কাকা বাধ্য হয়ে ঘরে আনিল তারে।
বাবার কথার অবাধ্য হারুন হয়নি যে সে কভু,
নিয়তির এক নির্মন পরিহাস জীবন প্রদ্বীপ নিভু।
মানসিক সমস্যায় পড়ল যে সে বিয়ের সপ্তাহ পর,
সুখের সংসারে ধরল ঘুনে ছাড়তে হইল ঘর।
রাস্তায় রাস্তায় ঘুড়া ফেরা করত এপার ওপাড় ছাড়ি
সন্ধ্যা হলেই খাবার খেতে ছুটিত বাড়ি বাড়ি।
সবাই তাকে ভালবাসত খুব, সে যে দাদার ছেলে,
কখনো কেউ না করত না খাবার ধরত মেলে।
এমন করিয়া জীবন তাহার কাটে যে অতি কষ্টে,
সব কিছুই হায় হইল যে শেষ ভাবিল পথ ভ্রষ্ট্রে।
ছেলের পানে ছুটাছুটা করে দাদার জীবন শেষ,
বয়স যে তার হইল অনেক পাকিল মাথা কেশ।
ছেলেটি তাহার মেধাবী ছিল বুদ্ধিমানও বটে,
স্কুল বিরতিতে খাতা কলম নিয়া আসতাম তার নিকটে।
ইংরেজীতে পারদর্শী ছিল ছুটিতাম তাহাই দেখে,
সবার খাতায় নাম লিখে দিত কখনো যেতো না রেগে।
এমনি করে চলছে জীবন বিরামহীম নদীর স্রোত,
সুস্থ মস্তিস্কের পচন তাহার বাড়ালো মনের ক্রোধ।
বাশ ঝাড়, কাঠাল গাছ আর ভুতুরে বেল গাছ,
একটু পাশেই ছোট্ট কুটির সেখানেই করিত বাস।
ছেলের প্রতি বাবার ভালবাসা নীড় হারা যেন পাখি,
সময়ে অসময়ে ঘুড়িত ফিরিত মনে পড়ে থাকি থাকি।
একদিন এক ঝড়ের রাতে আসিল ছেলের কাছে,
খাবার কিছু খাইয়ে দিল মাথার কাছে বসে।
এই খাওয়া তার শেষ খাওয়া হবে তাহা কি জানিত কেউ,
হ্রদয় ভাঙ্গা বাবার চোখে কষ্টের বিশাল ঢেউ।
বনের ঘুঘুরা কুরুন সুরে কাদিত দিবা রাত,
কষ্ট গুলু সব দাদার করল, কাটল না  প্রভাত।
যার কেউ নাই, আল্লাহ আছেন এ কথাই হল প্রমান।
মসজিদে মসজিদে দাদা যে থাকেন বাড়িয়ে দিল মান।
প্রকৃতির প্রেমে মুগ্ধ দাদায়, ছেলের ভালবাসা যেমন,
স্কুল মাদ্রাসায় ফলজ বৃক্ষ করত রোপন তেমন।
মানুষেরে তিনি বিনা লাভেই করতেন ফল দান,
তাই তো দাদার মানুষের কাছে এত বিশাল সন্মান।
আজও আছে দুঃখী গফুর দাদা সব হারিয়ে একা,
দোয়া করি পরকালে দাদা, পায় যেন সুখের দেখা।
১০/০২/২০১৭

Comments

Popular posts from this blog

প্রার্থনা

ইচ্ছে মনির ইচ্ছে ঘুড়ি(শিশুতোষ কাব্য গ্রন্থ)