দুঃখীনি মা

দুঃখীনি মা
__ নজরুল ইসলাম।
জন্ম দিলে স্বপ্ন দিলে জীবন দিলে তুমি
ঐ দূর পথের আধার নিভে আলো হল ভুমি।
সেদিন আমি ছোট্ট ছিলাম কান্না সারা রাত্রি,
ঘুম পাড়ানির গল্প বলে করলে সুখের যাত্রী।
হিম শীতল সেই নিশিকালে রেখেছিলে কোলে,
কষ্ট গুলু মুষ্টি করে  বুকে তালা দিলে।
মধুমাখা ভালবেসে তোমার চোখে চোখে রেখে,
মিষ্টি মুখে খোকা ডেকে গড়লে স্বপন ভাল দেখে।
না খাইয়ে আমায় তুমি, খাইয়ে দিলে মিথ্যে বলে,
খেয়ে নিতাম আমি তখন খেলা আর কথার ছলে।
বাবা আমার রিক্সা চালক, পরিশ্রমীও বটে,
গুটি কয়েক পয়সা যে পায়, সারাদিন খেটে খুটে।
হঠাৎ একদিন অসময়ে ফিরল বাবা বাড়ি,
কে জানিত এক অচেনা অসুখে, স্বপ্ন নিবে কাড়ি।
যেদিন থেকে বাবার সুখ, দেইনি তারে দেখা,
সেদিন থেকেই বাক নিল হায় মায়ের কপাল রেখা।
অর্থ কষ্টে অভাব অনটন আর দুঃখ দুর্দশা,
বাড়িয়ে দিল ব্যাথা মায়ের, ভাঙল সুখের আশা।
দিক বিদিক ছন্ন হারায় মা যে নিরুপায়,
যেখানে পেরেছে জড়ায়ে ধরেছে, মহাজনের দুটি পায়।
নিষ্ঠুর যে এই পৃথিবী জানিত না মা আগে,
চোখের জলে সাগর বানিয়ে ছুটিত স্টিমার বেগে।
এত কষ্টের মধ্যে আবার জন্মিল সুখ পাখি,
মায়ের কোলে দুনিয়া জোড়া মায়াবী বোন আখি।
কিভাবে কাটবে জীবন এখন দুঃখে মায়ে কাদ,
চোখের জ্বলেই সদা ভাসিত কাটিত দিবা রাত।
একদিন এক আত্নীয় এসে ধরল মাকে ক্ষেপে,
টাকা নাকি পাওনা কিছু নেবে পাল্লায় মেপে।
মা বলিল আর ক'টা দিন ধৈর্য ধর মাগো,
কথা দিলাম তোমার টাকার কড়ায় হিসেব দেবো।
কে শুনে কার কষ্ট কথা মা যে অসহায়,
শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল মায়ের বিয়ের গহনায়।
এদিকে বাবার অসুখ আরো বেড়ে গেল সীমা ছেড়ে,
মায়ের আরজ হে বিধাতা কষ্টহীন করো মোরে।
মা ছিল মোর গরীব ঘরের, বুনিয়াদি নানা ভাই,
ক্রোশ দেড়েক পথ হেটে হেটে, পেল যে কিছুটা ঠাই।
এক বিড়ে পান কিনিল, আর দশ টাকার সুপারী,
বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করবে তা, ছাড়ল জীবন তরী।
পরশ মাখা সেই আলতো পায়ে লাগিল মায়ের কাদা,
ভোর হতে না হতেই উঠিত মায়ে, ছুটিত বাড়ি সদা।
পেটের খিদা পেটে রেখেই, থাকিত হাসি মুখ,
বুঝতে দিত না কখনোই মায়ে, পাই যদি বুকে দুঃখ।
এমন করে দিনগুলু মায়ের কাটিত বড় কষ্টে,
দারিদ্রতা জোর করে হায় ধরল আষ্টেপৃষ্টে।
অবুঝ ছিলাম বুঝি নি তাই মাগো তোমার ব্যাথা,
মায়ের কষ্টে কাদিত সদা গাছের কচি পাতা।
মানুষের বাড়িতে কাজ করে কখনো ধান ঝেড়ে,
অল্প অল্প ধান চাল দিয়ে বিদায় করিত তেড়ে।
এই টাকাতে পথ চলা দায় ঔষুধ তো পরের কথা,
পান্তা ভাতও জুটিত না মুখে বাড়িত পেটের খিদা।
যখন যা পাইত মায়ে খাইয়ে দিত মোরে,
বলতাম যখন খাও না মা, বলত মায়ে পরে।
সেই কথা যে মিথ্যা ছিল জানতাম না আমি কখনো,
দুঃখীনি সেই মায়ের জন্য মনটা কাদে এখনো।
তোমার কাছে প্রার্থনা মোর হে খোদা দয়াময়।
আমার মায়ের দুঃখ কষ্ট করো তুমি ক্ষয়।

Comments

Popular posts from this blog

প্রার্থনা

ইচ্ছে মনির ইচ্ছে ঘুড়ি(শিশুতোষ কাব্য গ্রন্থ)